শুক্রবার ২১ আগস্ট ২০২৬ - ১৩:১৫
যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রতিরক্ষা শিল্প পুনর্গঠনের ঘোষণা ইরানের

সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোর অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা কাজে লাগিয়ে ইরান তার প্রতিরক্ষা শিল্পকে ধারাবাহিকভাবে আধুনিকায়ন ও পুনর্গঠন করবে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা যুদ্ধকে কোনো সমাপ্তি নয়; বরং শিক্ষা ও অগ্রগতির ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প হুমকির প্রেক্ষাপটে জন্ম নিলেও কখনো হুমকির কাছে থেমে যায়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রতিটি চাপ ও নিষেধাজ্ঞা আমাদের নিজস্ব সক্ষমতার ওপর নির্ভরতার প্রয়োজনীয়তা ও বিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করেছে। আর প্রতিটি যুদ্ধক্ষেত্র দেশের বিশেষজ্ঞদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।”

বিবৃতিতে ইসলামী বিপ্লবের নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর প্রশংসা করে বলা হয়, জনগণের ওপর আস্থা—বিশেষত তরুণ ইরানি বিজ্ঞানীদের সক্ষমতার প্রতি বিশ্বাস—এবং জ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন ও স্থানীয়করণের ভিত্তিতে তিনি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতার পথ নির্মাণ ও পরিচালনা করেছেন।

এতে প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতার এ পথে শাহাদাতবরণকারী কমান্ডার ও বিশেষজ্ঞদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানানো হয়। তাঁদের মধ্যে ড. মোস্তফা চামরান, আজিজ নাসিরজাদেহসহ ১২ দিনের যুদ্ধ ও রমজান যুদ্ধের সময় শহীদ হওয়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শতাধিক সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, “সাম্প্রতিক চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধগুলো ছিল দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যাচাইয়ের প্রকৃত ক্ষেত্র। ইরানি বিশেষজ্ঞদের বছরের পর বছর প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা সক্ষমতাগুলো সেখানে বাস্তবে প্রয়োগ করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী ও ইরানি জনগণের সক্ষমতার সঙ্গে মিলিত হয়ে তা শত্রুর বহু পরিকল্পনা ও লক্ষ্যকে ব্যর্থ করে দিয়েছে এবং তাদের হিসাব-নিকাশকে ভণ্ডুল করেছে।”

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, এসব যুদ্ধ শুধু মুখোমুখি সংঘর্ষের ক্ষেত্রই ছিল না; বরং সক্ষমতাগুলোকে আরও নিখুঁতভাবে মূল্যায়ন, নতুন প্রয়োজনীয়তা শনাক্ত এবং ভবিষ্যতের পথরেখা নির্ধারণের সুযোগও সৃষ্টি করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা শিখেছি যে থেমে থাকা যাবে না।”

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক যুদ্ধ এখন অতীতের বিষয়। তাই অহংকার বা উদ্বেগে না ভুগে যুদ্ধ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা শিল্পকে নিয়মিত নবায়ন, পুনর্গঠন ও আধুনিকায়ন করতে হবে।

বিবৃতিতে “প্রতিরক্ষা শিল্প বিপ্লব”-এর ধারণার কথাও উল্লেখ করা হয়। জাতীয় প্রতিরক্ষা অংশগ্রহণভিত্তিক এই মডেল কেবল নতুন কোনো পণ্য উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং চিন্তাধারা, নকশা, উৎপাদনব্যবস্থা, প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা, জ্ঞানভিত্তিক সক্ষমতার ব্যবহার, স্মার্ট সিস্টেম এবং জ্ঞানকে দ্রুত প্রতিরক্ষা শক্তিতে রূপান্তরের পুরো প্রক্রিয়াকে রূপান্তরিত করে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে যে জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক যত দৃঢ় হবে, হুমকি মোকাবিলা ও সংকট অতিক্রমের জাতীয় সক্ষমতাও তত বৃদ্ধি পাবে।

বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনেয়ীর কৌশলগত নেতৃত্বে যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাকে জ্ঞানে, জ্ঞানকে প্রযুক্তিতে এবং প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা শক্তিতে রূপান্তর করাই মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট লক্ষ্য।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha